মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

উপজেলা প্রশাসন

বোদা উপজেলার ইতিহাস অতি প্রাচীন। এর নাম করনেও অনেক মতভেদ রয়েছে, মনে করাহয়- অতি প্রাচীনকালে  করতোয়া নদী অনেক খরস্রোতা ও বৃহৎ আকারে এতদঅঞ্চলেরউপর দিয়ে প্রবহমান ছিল। কথিত আছে সতি বা পার্বতী দেহ ত্যাগ করলে তঁার দেহেরবিভিন্ন অংশ অবিভক্ত ভারত উপ-মহাদেশের একান্নটি স্থানে পতিত হয়। দেহেরঅংশগুলি যে যে স্থানে পতিত হয় সে স্থানগুলী পীঠস্থান হিসেবে স্বীকৃত হয়।সতির বাম পায়ের গোড়ালী বোদা এলাকার তিসত্মা নদীর তটে শালবাড়ি নামক স্থানেপতিত হয়। বর্তমানে যা বোয়ালমারি নামে পরিচিত। বোয়ালমারি হিন্দুদের একটিতীর্থস্থান। প্রতি বছর চৈত্র মাসে অমাবস্যার মধুকৃষা ত্রয়োদশীতে এখানেস্নান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত স্নান উপলক্ষ্যে একটি মেলা বসে যা বোয়ালমারিবারুণী মেলা নামে পরিচিত। এর পার্শ্বেই বদেশ্বরী নামক স্থানে বদেশ্বরীমন্দির স্থাপন করা হয় । পূন্যস্থান তদানিমত্মন কোচ রাজা প্রাণ নারায়নবদেশ্বরী মন্দির নির্মান করেন। কালক্রমে বদেশ্বরী নামানূসারে এ এলাকার নামহয় বোদা।

            এছাড়া জানা যায় যে, মোঘল শাসন আমলে শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থেবাংলাকে কতগুলি পরগনা বা চাকলা’য় বিভক্ত করা হয়। কুচবিহার মহারাজার রাজত্বছিল উত্তরে জলপাই জেলার রাজগঞ্জ থানা, পূর্বে পাটগ্রাম থানা দক্ষিণেবোদা-দেবীগঞ্জ পর্যমত্ম বিস্তৃত । চাকলার অভ্যমত্মরের জমিদারীর নামকরণ করাহয় ‘‘চাকলাজাত এস্টেট’’। কুচবিহার  মহারাজার চাকলাজাত এস্টেটের হেড অফিসছিল বোদায়। এখান থেকেই খাজনা আদায়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। খাজনাআদায়ের প্রধান কর্মকর্তাকে বলা হতো নায়েব। বোদা চাকলায় কর্মরত নায়েবের নামছিল বৈদ্যনাথ। বৈদ্যনাথ নায়েব মহাশয় সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিছিলেন। তিনি পালকিতে চলাফেরা করতেন। জনশ্রুতি আছে নায়েব বৈদ্যনাথকেসংক্ষেপে ‘বৈদ্য’ বলে ডাকা হতো। কালক্রমে ‘বৈদ্য’ শব্দ থেকে বোদা নামেরউৎপত্তি বলে অনেকে মনে করেন।

থানাসৃষ্টির ইতিহাসঃ  এতদাঞ্চলে জনগণ প্রজাহিতৈষি জমিদার দেবী সিংহের নেতৃত্বেঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৭৯৬ সালে বৃটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রজা বিদ্রোহ বা কৃষকবিদ্রোহ করেন। এতদ অঞ্চলে কোন প্রশাসনিক কোন ই্উনিট না থাকায় এবং এলাকাটিঘন অরণ্য বেষ্টিত হওয়ার কারণে বৃটিশরা প্রথম কৃষক বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হয়।কৃষক বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার এই এলাকায় একটি প্রশাসনিকইউনিক সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ফলশ্রুতিতে প্রথম কৃষকবিদ্রোহের পরের বছর ১৭৯৭ সালে বোদা থানার গোড়া পত্তন করেন। ১৭৭০ - ১৮৬৮ সালপর্যমত্ম বোদা পরগনা রংপুর জেলার অধীন ছিল। ১৮৬৯ - ১৯৪৭ সাল পর্যমত্ম বোদাছিল জলপাইগুড়ি জেলার অধীন। কুচবিহার মহারাজা বোদা থানার জন্য প্রদত্তসম্পত্তি রেন্ট ফ্রি হিসেবে বোদা থানাকে দান করে ১লা সেপ্টেম্বর, ১৮৮৩তারিখে একটি আদেশ জারি করেন। আদেশটি ৯/১/১৮৮৪ তারিখে কলকাতা গেজেটের প্রথমখন্ডের ১৭৭ নং পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়।

            তদানিন্তন জলপাইগুড়ি জেলার অধীন তিনটি থানা ছিল ।যথা - ৯১) জলপাইগুড়িসদর  (২)- রাজগঞ্জ  এবং (৩) বোদা।  বোদা ছিল জলপাইগুলি জেলার বৃহত্তম থানা।বোদা থানার অধিনে দুইটি পুলিশ আউটপোস্ট ছিল। একটি পঞ্চগড়ের উত্তরে জগদলএবং অপরটি করতোয় নদীর পূর্বপাড়ে দেবীগঞ্জ । কালক্রমে দেবীগঞ্জ এবং জগদলপূর্ণাঙ্গ থানায় রূপামত্মর হয়। জগদল হতে পরবর্তীতে উহা পঞ্চগড় (বর্তমানস্থানে) এ স্থানামত্মর করা হয়। দেশ বিভাগের পর (১৯৪৭ সালের পর) বোদা থানাটিদিনাজপুর জেলার এবং ঠাকুরগঁাও মহকুমার নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯৮০ সালে পঞ্চগড়মহকুমা সৃষ্টি হলে বোদা থানাটি পঞ্চগড় মহকুমার অমত্মভূক্ত হয়। পঞ্চগড়মহকুমার ০৫টি থানার মধ্যে বোদা থানাটি সর্ববৃহৎ। ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিতবোদা থানার ০৩টি ইউনিয়নঃ মাগুড়া , ধাক্কামারা ও গরিনাবাড়িকে পরবর্তীতেপঞ্চগড়  সদর থানার অমত্মর্ভূক্ত করা হয়।